পাইকগাছার বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটের ওপর বড় গর্ত, রয়েছে ধসে পড়ার শঙ্কা

আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা

পাইকগাছা উপজেলার বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটের ওপর হঠাৎ বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের নিচে স্লুইজ গেটের কাঠামোর ভেতরের অংশও দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত মেরামত না করলে স্লুইজ গেটের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গত শনিবার দুপুরে গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্লুইজ গেটের ওপরের পাকা সড়কের একটি অংশ ভেঙে নিচের দিকে দেবে গেছে। সেখানে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তের ভেতর দিয়ে স্লুইজ গেটের নিচের ফাঁকা অংশ দেখা যাচ্ছে। ভাঙা অংশের চারপাশে পাকা সড়কের আস্তরণ, ইট ও মাটির স্তর ছড়িয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা গর্তের পাশে গাছের ডাল পুঁতে সতর্কতার ব্যবস্থা করেছেন। সড়কের অন্য অংশেও ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটটি শুধু পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, আশপাশের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। গেটের ওপর দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। ফলে গর্তটি আরও বড় হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা শিলাদিত্য রায় বলেন, “সড়কের যে অংশে গর্ত হয়েছে, সেটি ধীরে ধীরে আরও বড় হচ্ছে। কোনো ভারী যানবাহন বা অতিরিক্ত চাপ পড়লে ওই অংশ ধসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, স্লুইজ গেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পাইকগাছা পৌরসদর ও গদাইপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। পাশাপাশি লতা ও দেলুটি ইউনিয়নের একাংশের সঙ্গে পাইকগাছা সদরের সড়ক স্থোনীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাইশারাবাদ স্লুইজ গেটের বর্তমান পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গর্ত আরও বড় হয়ে সড়ক ও স্লুইজ গেটের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে পানি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এরশাদ আলী বলেন, “আমি বাইশারাবাদ স্লুইজ গেট পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন